
রংপুর জেলা প্রশাসক মো. আসাদুজ্জামান আজ জেলার বিভিন্ন এলাকার বন্যার্ত মানুষদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। বন্যার কারণে গত সপ্তাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া কয়েকটি উপজেলার মানুষজন এখন খাদ্য সংকটে রয়েছেন। জেলা প্রশাসন এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় খাদ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য এবং অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে নেমেছে।
জানা গেছে, রংপুরের স্থানীয় সরকার বিভাগ, জেলা প্রশাসন, সামাজিক সেবা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থা যৌথভাবে এই ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আজ সকাল থেকেই জেলা প্রশাসক বিভিন্ন স্থানে গিয়ে বন্যার্ত মানুষের কাছে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের সহায়তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা ত্রাণ বিতরণে সহযোগিতা করতে উপস্থিত ছিলেন। একাধিক অঞ্চলে গিয়ে তারা বন্যার্তদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে শুনেন। বন্যা পরিস্থিতি ঠিক হওয়ার আগ পর্যন্ত ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘আমরা খাদ্য সামগ্রীসহ অন্ন, বস্ত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাশাপাশি শিশুদের জন্য খাবার ও শিক্ষাসামগ্রীও বিতরণ করার ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
বন্যার কারণে শুধু খাদ্য সংকট নয়, আশ্রয়হীন হওয়ার সমস্যা জিয়েরা উঠেছে। অনেক মানুষের বাসস্থান ভেঙে গেছে এবং অনেকেই স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। রংপুর অঞ্চলের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বানভাসি মানুষদের জন্য স্বাস্থ্য ক্যাম্প খোলা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসা সেবা, টিকাকরণ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য বিষয়ক সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
ত্রাণ বিতরণকালে শিশুরাও উপকৃত হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা সামগ্রীও বিতরণ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক জানান, আগামী সপ্তাহ থেকে সফলভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। এ বিষয়টি নিয়ে উপজেলা কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এছাড়াও সরকারি-বেসরকারি অনেক সংস্থা এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের একটি বড়দল বন্যার্তদের সহায়তায় মাঠে নেমেছেন। তারা খাদ্য পণ্য ও অন্যান্য সামগ্রী সংগ্রহ করে বন্যার্ত অঞ্চলে পাঠাচ্ছেন। এলাকাবাসীর মধ্যে একটি সংহতির সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই নিজেদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তারা জানান, প্রশাসন ত্রাণ বিতরণে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে, যা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলা প্রশাসক সমস্ত ত্রাণ কর্মসূচি এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং এটা নিশ্চিত করছেন যে প্রতিটি মানুষ প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছে।
রংপুর জেলা প্রশাসক জানান, বন্যার পরিস্থিতি উন্নত হওয়ার পরও সরকার এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে বন্যার পরবর্তী সংকটগুলো মোকাবেলা করা সম্ভব হয়। স্থানীয় প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন এনজিও মিলিতভাবে বন্যার্তদের পুনর্বাসনে কাজ করছেন। আগামী দিনে মধ্যেই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে হবে।
এখন পর্যন্ত ত্রাণ কার্যক্রমের আওতায় প্রায় ১০ হাজার বন্যার্ত মানুষের মাঝে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, সামগ্রিক পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে উঠবে এবং বন্যার্তদের জীবনযাত্রা পুনরুদ্ধারে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণ করবে।