বিডি জাগরণ । প্রতিবাদের প্রথম কন্ঠ
বিডি জাগরণ । প্রতিবাদের প্রথম কন্ঠ
Saturday, 20 Jun 2026 12:44 pm
বিডি জাগরণ । প্রতিবাদের প্রথম কন্ঠ

বিডি জাগরণ । প্রতিবাদের প্রথম কন্ঠ

দেশের কৃষি খাতে নতুন বিতরণ ব্যবস্থা চালু করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এই উদ্যোগের আওতায় আগামী মাস থেকে দেশের কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে সার বিতরণ শুরু হবে। এ সিদ্ধান্ত কৃষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা তাদের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সহায়ক হবে। দাবি করা হচ্ছে, তা দেশে খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

এমন সময়ে সরকারের এই পদক্ষেপ এসেছে যখন কৃষকরা উঁচু দামের কারণে অতিগুরত্বপূর্ণ সার ক্রয়ের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েছিল। আন্দোলনরত কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি দপ্তরগুলোতে এই সার বিতরণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সরকারের নীতিমালার আওতায় যারা গরিব ও মধ্যবিত্ত কৃষক, তাদের জন্য বিনামূল্যে সার সরবরাহ করা হবে। এটি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিচ্ছে।

এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকারির এই পদক্ষেপ দেশের কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং কৃষকদের মাঝে খাদ্য নিরাপত্তার অভাব পূরণে সহায়ক হবে। কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে সার বিতরণ নীতিগতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে, যার ফলে তারা সহজে জীবনযাপন করতে পারবেন।

বিশ্বের অনেক দেশে কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে বা কম দামে সারের ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশে এই ব্যবস্থাপনা এতদিন ছিল না। ফলে সারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে সরকারের উদ্যোগকে যথার্থ বলে মনে করছেন অনেক কৃষি বিশেষজ্ঞ। তারা বলছেন, এতে কৃষকরা উৎপাদনে উৎসাহিত হবেন এবং দেশের খাদ্য উৎপাদন বাড়বে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. ভবেশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘সরকারের এই সিদ্ধান্ত কৃষির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে সার বিতরণ করা হলে তাদের উৎপাদন খরচ কমবে, এবং কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে, যা কৃষকের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।’

এখনকার কৃষকদের ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বলা হচ্ছে, তারা সারের জন্য নির্ভরশীল। বিনামূল্যে সার পেলে তারা অনায়াসে বেশি বেশি জমিতে চাষাবাদ করবেন। তাদের মতে, সার ছাড়া কৃষি কাজ করা খুব কঠিন। তাই এই পদক্ষেপটি তাদের জন্য একটি আশাবাদী বার্তা।

এই কার্যক্রমের আওতায় সরকার ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৩২ লাখ মেট্রিক টন সার বিতরণের পরিকল্পনা নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে দেশের কৃষিপণ্য উৎপাদনে এক নতুন যাত্রা সূচিত হবে।

অন্যদিকে, কৃষকদের সংগঠনগুলোও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছে। তারা মনে করছেন, এর ফলে কৃষকেরা আরও উদ্যমী হয়ে উঠবেন এবং দেশের কৃষি খাতে এক নতুন দিগন্ত খুলবে। সরকার আশা করছে, এই পদক্ষেপ কৃষির সমস্যাগুলো সমাধানে সহায়ক হবে এবং দেশকে খাদ্য নিরাপত্তায় আরো সুরক্ষিত করবে।

তবে কৃষি বিষয়ে কিছু প্রশ্ন নিয়ে কৃষকদের মনে সংশয় রয়েছে। তারা জানাচ্ছেন, সরকারের এই নীতি কার্যকর হলে কৃষকদের কর্মসংস্থান ও জীবনমানের উন্নতিতে প্রকৃত পরিবর্তন আসবে কিনা। আশা করা হচ্ছে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

শুধু সার নয়, কৃষকদের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেও সরকার একাধিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর ফলে কৃষকেরা অপেক্ষাকৃত ভাল অবস্থায় আসতে পারবেন। এর পাশাপাশি কৃষির আধুনিকীকরণ এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ দেশের কৃষি খাতে এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে মনে করছেন অনেক কৃষি বিশেষজ্ঞ। তারা আশা করছেন কৃষকদের জীবনমানের উন্নতি হবে এবং খাদ্য উৎপাদনে টেকসই বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে।