
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সোমবার সরকারের পক্ষ থেকে ২৫০০ কোটি টাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পটি দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে তথা অর্থনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হল সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করা।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এবং তিনি দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি এই প্রকল্পের মাধ্যমে জনসাধারণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পটি বিশেষ করে দেশের গ্রামীণ অঞ্চলে অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে উৎসাহিত করবে।
একনেক সভায় উপস্থিত ছিলেন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, জনপ্রশাসন কর্মকর্তারা ও যথাযথ সংস্থার প্রতিনিধিরা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রকল্প নির্মাণ ও সেবা পরিকল্পনার জন্য সরকারী সম্পদের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।
মন্ত্রীপরিষদের সভা শেষে প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি জানান, প্রকল্প আরও বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে এবং এটি ২০২৪ সালের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। এটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উন্নয়নে ৫ লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যান্য বক্তারা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা ও প্রয়োজনীয়তার উপর আলোকপাত করেন। তাঁরা জানান, নতুন অবকাঠামো নির্মাণের ফলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং দেশের অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে থাকা অঞ্চলে উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। একই সাথে, দেশের নিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
প্রকল্পটি সম্পূর্ণরূপে সরকারী অর্থায়নে পরিচালিত হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও এতে যুক্ত করা হতে পারে। সরকার আশা করে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের জাতীয় উন্নয়ন প্রচেষ্টায় নতুন উদ্যম সৃষ্টি হবে।
এছাড়া, দেশীয় প্রস্তুতকারক ও নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুযোগ দিয়ে সামাজিক উন্নয়নেও অবদান রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রকল্পের আওতাভুক্ত কর্মচারীরা সরকারের বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচীর ক্ষেত্রেও সুফল পাবেন।
সমালোচকরা অবশ্য্ই প্রশ্ন তুলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণ এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা আদায়ের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হবে এবং তাঁদের স্বার্থ ঈপ্সিত হবে।
সরকারের বিশেষজ্ঞরা অভিজ্ঞতা থেকে শিখে নির্বাচিত স্থানে প্রকল্প নেওয়ার সময় পরিবেশগত প্রতিক্রিয়াও মূল্যায়ন করবেন।
অবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্প দেশের সহযোগিতার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে এবং সকলের সহযোগিতায় সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। আগামী মাস থেকেই প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানা গেছে।