
মমতা ব্যানার্জীর তৃণমূল কংগ্রেসের পর এবার বড় ভাঙনের মুখে পড়েছে উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা। তীব্র জল্পনা-কল্পনা, কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি এবং দলবদলের অভিযোগের পর রোববারই আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভাঙনের ঘোষণা আসতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে। ভারতের বিরোধী দলগুলোর ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের অন্যতম শরিক শিবসেনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিবসেনার এই ভাঙন উদ্ধব ঠাকরে ও ইন্ডিয়া জোটের জন্য বড় ধাক্কা।
এটি আসন্ন বাদল অধিবেশনে বিল পাসের ক্ষেত্রে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন এনডিএ (NDA) জোটকে বড় সুবিধা দিতে পারে। আরও পড়ুন যে দল ভেঙে গড়েছিলেন তৃণমূল, এখন সেই কংগ্রেসেই ফিরতে চান মমতা? জানা গেছে, উদ্ধব শিবসেনার ছয়জন বিদ্রোহী সংসদ সদস্য (এমপি) রোববার মুম্বাইতে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন। সেখানে তারা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে তাদের বৈঠকের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ এবং দলত্যাগের চিঠির অনুলিপি প্রকাশ করবেন।
একই সঙ্গে উদ্ধব ঠাকরের শিবির ছাড়ার কারণও তারা সেখানে ব্যাখ্যা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এই নাটকীয় পটপরিবর্তনের সূত্রপাত হয় গত ১৬ জুন। উদ্ধব শিবসেনার ছয় বিদ্রোহী এমপি—সঞ্জয় যাদব, সঞ্জয় দেশমুখ, ওমরাজ নিম্বালকর, ভাউসাহেব ওয়াকচৌরে, নাগেশ পাতিল আশতিকার এবং সঞ্জয় দিনা পাতিল দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গোপনে দিল্লি পৌঁছান এবং নয়ডার একটি হোটেলে ওঠেন। একই দিনে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী তথা আসল শিবসেনার প্রধান একনাথ শিন্ডে এবং তার ছেলে শ্রীকান্ত শিন্ডেও দিল্লিতে হাজির হন।
আরও পড়ুন মমতার দলে ভাঙনের নেপথ্যে কি দিল্লিতে শুভেন্দুর সেই বৈঠক? পরদিন ১৭ জুন সকালে বিদ্রোহী এমপিরা দুই দফায় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে একটি চিঠি জমা দেন। চিঠিতে তারা জানান, তারা বিজেপির মিত্র একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার সঙ্গে একীভূত হচ্ছেন এবং লোকসভায় তাদের বসার আসন পরিবর্তনের অনুরোধ জানান। স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকের পর কৌশলগত কারণে এই এমপিরা চেন্নাই, বারাণসী, পুনে ও মুম্বাইসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েন।
রোববারের সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে তারা সবাই এখন মুম্বাই ও পুনেতে জড়ো হয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনের পর এই ছয় এমপি একনাথ শিন্ডের সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানা গেছে। এর আগে উদ্ধব ঠাকরের বাসভবন ‘মাতোশ্রী’তে আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই এমপিদের অনুপস্থিতি ‘অপারেশন টাইগার’ বা শিন্ডে শিবিরের পক্ষ থেকে দল ভাঙানোর গুঞ্জনকে জোরালো করে। যদিও উদ্ধবের বিশ্বস্ত সহযোগী ও রাজ্যসভার এমপি সঞ্জয় রাউত দাবি করেছিলেন, অনুপস্থিত এমপিরা ভার্চুয়ালি বৈঠকে যুক্ত ছিলেন।
কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন ছিল। বিদ্রোহী এমপি সঞ্জয় যাদবকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতাপরাও যাদবের (শিন্ডে শিবির) সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা গেলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। এমপিদের এই দলবদলের মুখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সঞ্জয় রাউত। তিনি বিস্ফোরক দাবি করে বলেন, বিপুল অংকের অর্থের বিনিময়ে এই এমপিদের কেনা হয়েছে এবং চার্টার্ড প্লেনে করে তাদের দিল্লিতে উড়িয়ে নেওয়া হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের সামনে চরম ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাউত বলেন, এই সুবিধাবাদী ও পেছন থেকে ছুরিকাঘাতকারীদের দল কোনোভাবেই ক্ষমা করবে না। আরও পড়ুন ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা, হাইকোর্টের রায়ে বড় ধাক্কা মমতার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উদ্ধব শিবসেনার এই ভাঙনের সঙ্গে কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) ভাঙনের মিল খুঁজে পাচ্ছেন। তৃণমূলের বিদ্রোহী এমপিদের মতোই উদ্ধবের দলের এই এমপিরা আলাদা জোট তৈরি করে স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তৃণমূলের বিদ্রোহীরা যেভাবে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই-এর সঙ্গে একীভূত হয়েছিল, উদ্ধব সেনার এই এমপিরাও একইভাবে শিন্ডের শিবসেনায় যোগ দেবেন।
এই ভাঙন মহারাষ্ট্রে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করা উদ্ধব ঠাকরের রাজনৈতিক শক্তিকে যেমন দুর্বল করবে, তেমনি দিল্লিতে মোদি সরকারের আসন সংখ্যা বাড়িয়ে বিরোধীদের ‘ইন্ডিয়া’ জোটকে এক মহাসংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডেকেএএ/