
ইতালির রোমের অদূরে মক্তবের শিশু শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগে এক বাংলাদেশি ইমামকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ। গ্রেফতার ইমামকে এরই মধ্যেই স্থানীয় একটি আদালতে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আদালত প্রাঙ্গণ থেকে এক ভিডিও বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতে কর্মরত একজন প্রবাসী বাংলাদেশি দোভাষী। তবে ইতালির আইনি কঠোরতা এবং গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে অভিযুক্ত ইমামের নাম এবং সুনির্দিষ্ট শহরের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মক্তবে শিশুদের কোরআন ও আরবি শিক্ষা দেওয়ার সময় ওই ইমাম বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর চড়াও হন। পড়া না পারা বা অন্য কোনো কারণে তিনি শিশুদের কান ধরে টানা, চড় মারা এবং লাথি মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ভুক্তভোগী শিশুরা তাদের নিজ নিজ স্কুলে গিয়ে শিক্ষকদের কাছে এই নির্যাতনের বিবরণ দেয়। স্কুলের শিক্ষকরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় থানায় একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ইমামকে গ্রেফতার করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দোভাষী জানান, ইতালির আইন অনুযায়ী শিশুদের গায়ে হাত তোলা বা যে কোনো ধরনের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি দেওয়া গুরুতর এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি ইতালিতে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি ইমাম ও মক্তব শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা যারা ইতালিতে বিভিন্ন মসজিদে বা মক্তবে শিশুদের আরবি ও দ্বীনি শিক্ষা দিচ্ছেন, তারা অত্যন্ত যত্ন ও ধৈর্যের সাথে এই দায়িত্ব পালন করুন। কোনো অবস্থাতেই শিশুদের গায়ে হাত তোলা যাবে না।
শিশুরা স্কুলে গিয়ে এমন কোনো অভিযোগ করলে প্রশাসন সরাসরি কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে, যার পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ। তিনি ইমামদের ইতালির আইন-কানুন মেনে ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান। এমআরএম