বিডি জাগরণ । প্রতিবাদের প্রথম কন্ঠ
বিডি জাগরণ । প্রতিবাদের প্রথম কন্ঠ
Friday, 17 Jul 2026 15:03 pm
বিডি জাগরণ । প্রতিবাদের প্রথম কন্ঠ

বিডি জাগরণ । প্রতিবাদের প্রথম কন্ঠ

আট হাজার বর্গফুটের বাড়ির ছাদ। অথচ সেখানে গেলে মনে হবে যেন রঙিন পাখির এক স্বর্গরাজ্যে। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর প্রজাতির হাঁস, বিরল বিদেশি পাখি, ময়ূর, ম্যাকাও, অ্যামাজন প্যারট মিলিয়ে দুই শতাধিক জোড়া পাখির বিচরণ। এমনই এক খামার গড়ে তুলেছেন নারায়ণগঞ্জ শহরের টানবাজার পুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা বজলুর রশীদ সেলিম।

সেলিম তার খামারের নাম দিয়েছেন ‌‘সারুমা বার্ড ব্রিডিং পার্ক’। ছোটবেলা থেকেই নানা জাতের শৌখিন পাখি পালনের শখ ছিল। আর সেই শখই ধীরে ধীরে রূপ নিয়েছে একটি সুপরিকল্পিত বার্ড ব্রিডিং পার্কে। এখানে রয়েছে ৫০ প্রজাতির ২০০ জোড়ারও বেশি পাখি।

খামারে রয়েছে ব্লু অ্যান্ড গোল্ড ম্যাকাও, আফ্রিকান গ্রে প্যারট, রেড-লোরেড অ্যামাজন প্যারট, হার্লেকুইন ময়ূর, বিভিন্ন প্রজাতির মুরগি এবং নানান রঙের শৌখিন বিদেশি পাখি। খামারের অন্যতম আকর্ষণ পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর প্রজাতির হাঁস হিসেবে পরিচিত ‘ম্যান্ডারিন ডাক’। চীন, জাপান ও কোরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে বেশি দেখা যায় এই হাঁস। সাধারণত উঁচু গাছে বাসা বাঁধে তারা।

রঙের বৈচিত্র্য আর সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বজুড়েই এই হাঁসের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। সেলিমের খামারে রয়েছে প্রায় ১৫ জোড়া ম্যান্ডারিন হাঁস। সেলিমের বিচিত্র পাখির খামারে খুশি প্রতিবেশীরাও। এখানে এসে তারা নিজেদের মতো করে সময় কাটান।

প্রতিবেশীদের ভাষ্য, শহরে এমন পরিবেশ সত্যিই ব্যতিক্রম। অবসর সময় কাটানোর পাশাপাশি প্রকৃতির খুব কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে এখানে। ময়ূরের নাচ, রঙিন পাখির ওড়াওড়ি কিংবা নানা প্রজাতির পাখির কিচিরমিচির সব মিলিয়ে মানসিক প্রশান্তির এক অনন্য ঠিকানা হয়ে উঠেছে এই ছাদের খামার। তাদের অনেকেই নিয়মিত এখানে এসে পাখিদের সঙ্গে সময় কাটান, যত্ন নেন এবং ছবি তোলেন।

খামারটি দেখতে এসেছেন কলেজছাত্র জয়দাস প্রীতম। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রকৃতি সবার কাছেই ভালো লাগে। আমরা যারা শহরে বসবাস করি, তাদের সময় কাটানোর মতো তেমন জায়গা থাকে না। তাই প্রতিদিনই এখানে এসে সময় কাটাই।

আমার কাছে অনেক ভালো লাগে।’ অসিমা তাসফিক নামের আরেকজন বলেন, ‘যখনই অবসর সময় পাই তখনই এখানে আসি। আমি যখন প্রথম ছাদে আসি তখনই এটা দেখে খুবই অবাক হই। শহরে এরকম একটা পরিবেশ আশা করা যায় না।’ এ বিষয়ে বজলুর রশিদ সেলিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘সম্পূর্ণ শখের বশে পাখির খামারটি করেছি। কোনো পাখি বিক্রিও করি না।

তবে অনেকেই আমার খামার দেখতে আসেন। তাদের অনুভূতি দেখে আমারও ভালো লাগে।’ নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মান্নান মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘শৌখিন পশুপাখি পালনকারীদের সেবায় আমরা সবসময় নিয়োজিত। তবে নিয়মিত ভ্যাকসিন দিলে পশুপাখি সুস্থ থাকবে এবং পালনকারীরা লাভবান হবেন। এজন্য আমাদের পক্ষ থেকে খামারিদের সবসময় সহযোগিতা থাকবে।’ এসআর