বিডি জাগরণ । প্রতিবাদের প্রথম কন্ঠ
বিডি জাগরণ । প্রতিবাদের প্রথম কন্ঠ
Wednesday, 22 Jul 2026 08:02 am
বিডি জাগরণ । প্রতিবাদের প্রথম কন্ঠ

বিডি জাগরণ । প্রতিবাদের প্রথম কন্ঠ

নিরাপত্তার জন্য ব্যবহৃত সিসি ক্যামেরাই কখনো কখনো গোপনীয়তার ঝুঁকির কারণ হতে পারে। অসতর্কতার কারণে ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁস, ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে চলে যাওয়া কিংবা অনলাইন হ্যাকিংয়ের মতো ঘটনা ঘটতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সাধারণ সতর্কতা মেনে চললেই এসব ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। বর্তমানে বাড়ি, অফিস, দোকানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরার ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

কিন্তু সঠিকভাবে সেটআপ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে এই প্রযুক্তি হয়ে উঠতে পারে ব্যক্তিগত তথ্যের জন্য হুমকি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সিসি ক্যামেরা হ্যাক হয়ে ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বড় কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, বরং ব্যবহারকারীদের কিছু সাধারণ ভুলের কারণেই এসব সমস্যা তৈরি হয়। ডিফল্ট পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন সিসি ক্যামেরার নিরাপত্তায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি হলো ডিফল্ট পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা।

কারণ অনেক ক্যামেরার প্রাথমিক পাসওয়ার্ড অনলাইনে সহজেই পাওয়া যায়, যা ব্যবহার করে সাইবার অপরাধীরা ক্যামেরায় প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ক্যামেরা চালু করার পরপরই ডিফল্ট পাসওয়ার্ড বদলে বড় ও ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্ন মিলিয়ে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিত। একই পাসওয়ার্ড বারবার ব্যবহার করবেন না একাধিক অ্যাকাউন্ট বা ডিভাইসে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই সিসি ক্যামেরার জন্য আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা নিরাপদ।

অনেকেই ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সিসি ক্যামেরার জন্য একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন। এর ফলে একটি অ্যাকাউন্টের তথ্য ফাঁস হলে একই পাসওয়ার্ড দিয়ে অন্য অ্যাকাউন্টেও ঢোকার সুযোগ তৈরি হয়। সাইবার নিরাপত্তায় এটিকে ‘ক্রেডেনশিয়াল স্টাফিং’ নামে পরিচিত একটি আক্রমণ কৌশল হিসেবে ধরা হয়। সফটওয়্যার আপডেট সিসি ক্যামেরাও এক ধরনের কম্পিউটার।

তাই এতে থাকা সফটওয়্যার বা ফার্মওয়্যারে নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি থাকতে পারে। এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট শনাক্ত করতে কার্যক্রম বৃদ্ধি করছে টিকটক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত আপডেটের মাধ্যমে এসব ত্রুটি ঠিক করে। কিন্তু ব্যবহারকারী যদি সেই আপডেট ইনস্টল না করেন, তাহলে পুরোনো দুর্বলতাগুলো কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখুন যেসব ক্যামেরা বা মোবাইল অ্যাপ টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন সমর্থন করে, সেখানে এটি চালু রাখা উচিত।

এতে পাসওয়ার্ড জেনে গেলেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা যাচাই ছাড়া অন্য কেউ সহজে আপনার ক্যামেরায় প্রবেশ করতে পারবে না। পাবলিক ওয়াইফাই দিয়ে ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ না করা হোটেল, ক্যাফে বা বিমানবন্দরের উন্মুক্ত ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক সব সময় নিরাপদ নাও হতে পারে। এসব নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ বা লগইন করলে তথ্য চুরির ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। প্রয়োজনে মোবাইল ডেটা বা নিরাপদ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করাই ভালো।

অচেনা অ্যাপ ব্যবহার করবেন না অনেকেই অতিরিক্ত সুবিধার আশায় তৃতীয় পক্ষের (থার্ড পার্টি) অ্যাপ ব্যবহার করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভব হলে ক্যামেরা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল অ্যাপ ব্যবহার করাই নিরাপদ। অজানা উৎস থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করলে ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ক্যামেরার অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার পাশাপাশি ক্যামেরা কোথায় বসানো হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

শোবার ঘর, বাথরুম বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার স্থানগুলোতে ক্যামেরা বসানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ নিরাপত্তা ভাঙলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তাই। ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহারে সতর্ক থাকুন অনেক আধুনিক সিসি ক্যামেরার ভিডিও সরাসরি ক্লাউডে সংরক্ষিত হয়। ক্লাউড সেবা ব্যবহার করলে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড, ২-ধাপ যাচাই এবং নিয়মিত লগইন কার্যক্রম পরীক্ষা করা উচিত।

পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় পুরোনো ডিভাইসের অ্যাক্সেস মুছে ফেলাও জরুরি। সিম কার্ডের এক কোণা কাটা থাকে কেন জানলে অবাক হবেন পুরোনো ক্যামেরা বিক্রির আগে যা করবেন পুরোনো ক্যামেরা বিক্রি বা অন্যকে দেওয়ার আগে শুধু মেমোরি কার্ড খুলে ফেললেই যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিভাইসটি ‘ফ্যাক্টরি রিসেট’ করে সব অ্যাকাউন্ট থেকে লগআউট করতে হবে। প্রয়োজনে ক্লাউড অ্যাকাউন্ট থেকেও ডিভাইসটি অপসারণ করতে হবে।

কীভাবে বুঝবেন আপনার ক্যামেরা ঝুঁকিতে? নিচের লক্ষণগুলো দেখা গেলে সতর্ক হওয়া উচিত— পাসওয়ার্ড নিজে থেকে পরিবর্তিত হয়ে যাওয়া। অচেনা ডিভাইস থেকে লগইনের নোটিফিকেশন। ক্যামেরা নিজে থেকে ঘুরে যাওয়া (পিটিজেড ক্যামেরার ক্ষেত্রে)।

আমার বাঙলা/ রাব্বি