বিডি জাগরণ । প্রতিবাদের প্রথম কন্ঠ
বিডি জাগরণ । প্রতিবাদের প্রথম কন্ঠ
Wednesday, 22 Jul 2026 13:01 pm
বিডি জাগরণ । প্রতিবাদের প্রথম কন্ঠ

বিডি জাগরণ । প্রতিবাদের প্রথম কন্ঠ

মাদারীপুরে বর্ষা মৌসুমে নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে জিওব্যাগ ফেলা হলেও স্রোতের কারণে তেমন একটা কাজে আসছে না। এতে আতঙ্কে রয়েছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুরে আড়াইশ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পদ্মা, পালরদী, ময়নাকাটা, বিষারকান্দি, কুমার, কীর্তিনাশাসহ ১৫টি নদ-নদী আছে।

এরমধ্যে পদ্মা, আড়িয়াল খা ও পালরদী নদীর বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। টানাবৃষ্টিতে জেলার সবগুলো নদ-নদীর পানি বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে স্রোতের তীব্রতা। এতেই বেড়েছে নদীভাঙন।

আরও পড়ুন বাঁধ ধসে কাজে আসছে না জিও ব্যাগ, আতঙ্কে এলাকাবাসী মাদারীপুর সদরের খোয়াজপুর, টেকেরহাট, পাচখোলা ইউনিয়নের উত্তর মহিষেচর, পূর্ব মহিষেচর এলাকার আচমত আলী খান ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা, বাহাদুরপুর, দুধখালী, শ্রীনদী, শিড়খাড়া ইউনিয়নের চর ঘুনসি, কালকিনি উপজেলার খুনেরচর, খাশেরহাট, সিডিখান এলাকার নতুন চরদৌলত খা এলাকা, করিম খানের হাট এলাকাসহ শিবচর, রাজৈর ও ডাসার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এরইমধ্যে অনেক পরিবার ভাঙনের শিকার হয়ে ঘরবাড়ি হারিয়েছে। অনেক এলাকায় ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল, সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ বহু স্থাপনা। ভাঙন প্রতিরোধে সাড়ে ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে আট হাজার বালুর বস্তা বিভিন্ন এলাকায় ফেলা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আরও পড়ুন পিরোজপুরে নদীভাঙনে বিলীন বসতভিটা, আতঙ্কে হাজারো পরিবার কালকিনি উপজেলার খুনেরচর এলাকার কৃষক মো. জয়নাল জাগো নিউজকে বলেন, ‘আড়িয়াল খা নদে আমার ঘরবাড়ি একাধিকবার ভেঙেছে। এই নদী আমার সব কিছু কেড়ে নিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে বাড়ির সামনে জিওব্যাগ ফেলা হয়েছিল, স্রোতে তা হারিয়ে গেছে। এবারও কিছু বালুর বস্তা ফেলেছে, তাও খুব কম। এগুলোতে তেমন একটা কাজে আসে না।

এখানে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ জরুরি।’ আরও পড়ুন চাঁদপুর শহররক্ষা বাঁধে নতুন আশায় বুক বাঁধছেন বাসিন্দারা সদর উপজেলার মহিষচর এলাকার বাসিন্দা জয়নাল হোসেন বলেন, ‘আমার বাসার সামনেই নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতিবছরই এখানে ভাঙন দেখা দেয়। জানি না আমাদের দুর্ভোগ কবে শেষ হবে?’ পূর্ব মহিষেচর এলাকার শাহেরুর বিবি বলেন, ‘প্রতিবছরই নদী ভাঙে। ভাঙতে ভাঙতে খুব কাছে চলে এসেছে।

তাই চরম আতঙ্কের মধ্যে আছি।’ এ বিষয়ে মাদারীপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সানাউল কাদের খান বলেন, ‘মাদারীপুরের বিভিন্ন নদ-নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় ভাঙন বেড়েছে। তাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রকল্প অনুমোদন হলে এলাকাবাসীর চাওয়া অনুযায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে।’ আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/এসআর/জেআইএম