
২০১৩ সালে দেশের ২২ হাজার ৩৪টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের আওতায় আনা হয়। কিন্তু সেসময় রাজনৈতিক কারণে বাদ পড়ে ৪ হাজার ১৫৯ প্রাথমিক বিদ্যালয়। দীর্ঘ আট বছর পর এখন এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জাতীয়করণের দাবি জানাচ্ছেন।
গত বৃহস্পতিবার, আগস্টের ২০তম দিনে, ‘বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি’ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মিজ শাহীনা ফেরদৌসীকে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে উল্লিখিত হয়েছে, এসব বিদ্যালয়কে দ্রুত জাতীয়করণের আওতায় আনা এবং ২০২৩ সালের নিবন্ধন নীতিমালার বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত রাখার দাবি করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয়করণের জন্য ২০১২ সালের ২৭ মে পূর্বে প্রতিষ্ঠিত, জমি দলিলকৃত এবং পাঠদানের জন্য অনুমতি প্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলো যোগ্য হিসেবে ধরা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৩ সালে জাতীয়করণের সময় যাচাই-বাছাই শেষে মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এসব বিদ্যালয় বাদ পড়ে যায়।
এই সমস্যার কথা উল্লেখ করে শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. মামুনুর রশীদ খোকন বলেন, ওই সময় রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কিছু বিদ্যালয় বাদ পড়ে। কিছু ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের জমিদাতা বা প্রতিষ্ঠাতা ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে বিদ্যালয়গুলোকে বাদ দেওয়া হয়।
বিদ্যায়ী দিগন্তের অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১২ সালের ২৭ মে আগে প্রতিষ্ঠিত এবং যথাযথ নিয়মে পরিচালিত বিদ্যালয়গুলোর জমি সরকার বা সরকারি সংস্থার নামে নামজারি করা হয়েছে। তথাপিও ২০২৩ সালের নতুন নিবন্ধন নীতিমালায় ৪ হাজার ১৫৯টি বিদ্যালয়ের উল্লেখ নেই। ফলে শিক্ষকরা নতুন করে নিবন্ধনের চাপের মধ্যেও রয়েছেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা আরও জানান, স্থানীয় কিছু উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিভিন্ন কারণে তাদের নতুন করে নিবন্ধনের জন্য চাপ দিচ্ছেন। তাই তারা সরকারের কাছে আবেদন করেছেন যাতে এসব বিদ্যালয়ের নিবন্ধন জটিলতা দূর করা হয় এবং দ্রুত জাতীয়করণ করা হয়।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মিজ শাহীনা ফেরদৌসী বিষয়টি সম্পর্কে জানান, তারা স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন এবং এই বিষয়ে আলোচনা চলছে। সরকারের কাছে বিষয়টি পৌঁছে দিলে বিশেষ কমিটি গঠন করা হতে পারে এবং ধাপে ধাপে বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, শিক্ষক সমিতির নেতারা সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়ে বলেন, তাদের বিদ্যালয়গুলোকে দ্রুত জাতীয়করণের পাইপলাইন থেকে বের করে এনে যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হোক। এ বিষয়ে সরকারের সদর্থক সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করছেন তারা।