
বাংলাদেশে এলএনজি (লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস) সংকট কেবল অব্যাহতই থাকছে না, বরং স্থানীয় বাজারে এর প্রভাবও মারাত্মক হয়ে উঠছে। ইতোমধ্যে, অনেক জরুরি প্রকল্পের জন্য এলএনজি কেনায় সরকারের ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, সরাসরি কেনা করা কার্গো আসতে বিলম্ব হওয়ায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এর ফলে এক্ষাতিতে অন্তত ১৬৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।
এলএনজি আমদানিতে সরকারের পরিকল্পনা পর্যায়ক্রমে কিন্তু স্থবির। সম্প্রতি কয়েকটি দরপত্র ডাকা হয়েছিল, কিন্তু ঘোষিত দরপত্রও সাড়া পাচ্ছে না। বিভিন্ন নিশ্চিত কতৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে যে, আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সংকটের কারণে অনেক বিদেশী কোম্পানি এলএনজি রফতানিতে আগ্রহী নয়।
করোনাকালীন সময়ে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে এলএনজি সংকট শুরু হয়েছিল। মনে হচ্ছে, এখনো সেই সমস্যায় রয়েছে দেশ। যদিও সরকার এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে দাবি করছে, প্রকৃত দৃশ্যপট অন্য কথা বলছে। স্থানীয় শিল্পকারখানা, বিদ্যুতের উৎপাদন ও সাধারণ জনগণের গ্যাস ব্যবহারে এই সংকটের প্রভাব স্পষ্ট।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এলএনজি সরবরাহের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে দরপত্র আহ্বান করেও কাঙ্খিত সাড়া পাননি। ফলে সমস্যাটি আরও জটিল হয়ে উঠছে এবং সময়ের সাথে সাথে এই সংকট নাগরিকদের জীবনযাপনেও প্রভাব ফেলবে।
এদিকে, এলএনজি নিয়ে বিভিন্ন মহলের উদ্বেগ ও সমালোচনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাসের অপ্রতুলতা ও উচ্চ ব্যয়ের কারণে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। যদি সময়মতো এলএনজি আমদানি করা না যায়, তাহলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে মন্দা দেখা দেবে, তা দেশের সকল অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে থমকে দিতে পারে।
অর্থমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও জনসাধারণের জন্য এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় কিছু পরিকল্পনার কথা বলেছেন। তবে তা সার্বিকভাবে সুসংবদ্ধ এবং কার্যকর প্রমাণিত হয়নি। বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা, যা পরবর্তী সময়ে দেশের উন্নয়নের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
সরকারের উচিত অবিলম্বে এই সংকটের দিকনির্দেশনা গ্রহণ করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কার্যকরীভাবে গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা। পাশাপাশি, শরীরী উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা রক্ষা করা প্রয়োজন।
এলএনজি সংকট মোকাবেলার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার দিকে নজর দেওয়া দরকার। প্রয়োজনীয়তার নিরিখে যথাযথ গবেষণা ও জরিপ করে লাভজনক এবং স্থায়ী সমাধান বের করতে হবে, নয়তো দেশের উন্নয়ন এক বড় সমস্যার মুখে পড়তে পারে।