সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (১৯ জুলাই) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শ

শেয়ারবাজারে বড় দরপতন, কমেছে লেনদেন

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (১৯ জুলাই) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। ফলে কমেছে মূল্য সূচক। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে।

ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মিলে। লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টা সূচকের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকে। তবে দুপুর ১২টায় বাজারের চিত্র বদলে যায়। দাম বাড়ার তালিকা থেকে একের পর এক প্রতিষ্ঠান দাম কমার তালিকায় চলে আসে।

আর লেনদেনের শেষদিকে এক প্রকার ঢালাও দরপতন হয়। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্য সূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়। আরও পড়ুন টানা ৪ কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী থেকে শেয়ারবাজারে ঢালাও দরপতন দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ৯৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২৪৫টির এবং ৪৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৪২টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৩৮টির দাম কমেছে এবং ১৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ১৩টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৫টির এবং ৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪২টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫২টির এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ২০টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৭টির দাম কমেছে এবং ৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

আরও পড়ুন শেয়ারবাজারে ঢালাও দরপতন, হাজার কোটি টাকার নিচে নামলো লেনদেন দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪৪ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮৫৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২১০ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৯৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। মূল্য সূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে।

বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৭০ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ১১৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৪৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ার।

কোম্পানিটির ২৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা টেকনো ড্রাগসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৭২ লাখ টাকার। ২৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ। আরও পড়ুন বড় উত্থানের পর শেয়ারবাজারে ফের দরপতন এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে বিএসআরএম স্টিল, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, এসিআই ফর্মুলেশন, সামিট এলায়েন্স পোর্ট এবং ফারইস্ট নিটিং।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৬৬ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ ২৩৯ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৬টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৩৭টির এবং ২৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এমএএস/এমএমকে


Comment As:

Comment (0)