টেকসই উন্নয়নের জন্য তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য, মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সামাজিক সমস্যা সমাধানে
স্থানীয় উন্নয়নে তরুণদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: বিশেষজ্ঞরা
সাম্প্রতিক একটি আলোচনা সভায় বক্তারা উঠে এসেছেন মহানগরীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে তরুণদের ভূমিকার উপর গুরুত্বারোপ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বেচ্ছাসেবী কাজ এবং দেশীয় প্রকল্পগুলোতে যুবকদের অংশগ্রহণ কেবল স্থানীয় উন্নয়নকেই নির্ধারিত করে না, বরং এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও সহায়ক হতে পারে।
আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা বলেন, তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা এবং পরিবর্তনের আগ্রহ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উপস্থিত যুবকরা নানা প্রজেক্টের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবেশ রক্ষায় কাজ করে চলেছেন। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি প্রকল্পের পরিচালক ডা. সুমি খান বলেন, 'তরুণদের এই উদ্যম সমাজের জন্য একটি বড় সম্পদ। তারা তাদের শক্তি এবং আগ্রহের মাধ্যমে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাহায্য করছে।'
তরুণদের এই উদ্যোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি প্রকল্প হলো 'পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন', যা স্থানীয় সমাজে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে। প্রকল্পের সহ-সমন্বয়ক রাহাতুল ইসলাম জানান, 'আমরা তরুণদের উদ্বুদ্ধ করছি, যেন তারা নিজ নিজ এলাকার পরিবেশ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। তরুণদের সমন্বয়ে আমরা ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছি।'
বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য তরুণদের ভূমিকা কীভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা চলাকালীন অর্থনীতিবিদ এম. এ. রশিদ বলেন, 'যুবশক্তির শক্তিশালী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সরকার এবং নীতিনির্ধারকদের তরুণদের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ করে দেওয়া উচিত, যাতে তারা উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নিতে পারে।'
এছাড়া, সভার একজন বক্তা স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'তরুণদের স্বেচ্ছাসেবী কাজের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আরও বেশি সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকারী প্রকল্পে তরুণদের উৎসাহিত করা হলে, তাদেরকে উদ্ধুদ্ধ করা যাবে এবং তারা স্থানীয় উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।'
সংগঠকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, সরকারের উদ্যোগ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে যুবকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। এবিষয়ে স্থানীয় নীতি নির্ধারকদের সাথে যৌথভাবে কাজ করার লক্ষ্যে একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরির পরিকল্পনা নিচ্ছেন তারা। বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন, যদি তরুণদের এই অংশগ্রহণের যথাযথ মূল্যায়ন করা যায় এবং তাদের ক্ষমতায়িত করা হয়, তবে সমাজে সুফল নিশ্চিত করা সম্ভবপর হবে।
এদিকে, যুবকদের অংশগ্রহণের বিষয়টি রাজধানী সহ অন্যান্য মহানগরীর বিভিন্ন ক্ষেত্রে লক্ষণীয়, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজের শিক্ষার্থীরা সমাজ সেবামূলক কার্যক্রমে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন। বক্তারা নেতৃস্থানীয় যুব সংগঠনগুলোর উদাহরণ দিয়েছেন, যেগুলো নানা আয়োজনে এগিয়ে আসছে এবং যুবকদের উদ্যোগকে সামনে নিয়ে আসছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলেই একমত হয়েছেন যে, আগামী দিনে দেশে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা বজায় রাখতে তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।





