কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করা নুরুল হক নুরুকে ঘিরে এখন তার নিজ এলা

ক্ষমতার ছায়ায় ‘নুরুতন্ত্র’: স্বজনদের উত্থান, দখল-চাঁদাবাজি ও অনিয়মে ক্ষুব্ধ গলাচিপা

কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করা নুরুল হক নুরুকে ঘিরে এখন তার নিজ এলাকা পটুয়াখালীর গলাচিপা ও দশমিনায় উঠছে বিস্তর অভিযোগ। স্বজনপ্রীতি, দখল-চাঁদাবাজি, সরকারি কাজে প্রভাব বিস্তার, নিয়োগে অনিয়ম এবং ঘনিষ্ঠদের অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধির অভিযোগে স্থানীয় রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নুরের রাজনৈতিক উত্থানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলে গেছে তার পরিবারের একাধিক সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনের জীবনযাত্রা। একসময় চা বিক্রি, মাছের ব্যবসা কিংবা ছোটখাটো পেশায় থাকা কয়েকজন এখন বাড়ি-গাড়ি ও বড় ব্যবসার মালিক—এমন দাবি স্থানীয়দের। প্রশ্ন উঠেছে, এত অল্প সময়ে এই বিপুল অর্থ ও সম্পদ এলো কোথা থেকে?

স্থানীয়দের অভিযোগ, গলাচিপা ও দশমিনার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরেও নুরের স্বজন ও দলীয় নেতাদের প্রভাব এখন দৃশ্যমান। প্রশাসন থেকে শিক্ষা ও ভূমি অফিস—বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে। সরকারি নিয়োগেও মেধার বদলে রাজনৈতিক পরিচয় ও স্বজনপ্রীতিকে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

একটি নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে অভিযোগ আরও বিস্ফোরক। পরীক্ষায় ভালো ফল করেও অনেকে বাদ পড়েছেন, অথচ পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া ব্যক্তিও চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। তাদের অভিযোগ, ফল প্রকাশের পর তালিকা পর্যন্ত পাল্টে দেওয়া হয়েছে। মেধাবীদের অধিকার কেড়ে নিয়ে যদি ক্ষমতার আশীর্বাদপুষ্টদের জায়গা করে দেওয়া হয়, তবে সেই অনিয়মের জবাব কে দেবে?

এখানেই শেষ নয়। নুরের আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠদের নাম ব্যবহার করে বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, জমি দখল, গাছ কেটে নেওয়া, লুটপাট ও চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি। সরকারি খাদ্যগুদাম ও ত্রাণের চাল থেকে শুরু করে উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে নুরের স্বজন ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠদের দ্রুত আর্থিক উত্থান নিয়ে। প্রতিবেদনে তার শ্যালক, ভগ্নিপতি এবং একাধিক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির সম্পদ ও জীবনযাত্রার নাটকীয় পরিবর্তনের কথা উঠে এসেছে। একই সঙ্গে সংগঠনের নামে প্রবাসীদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেও তার হিসাব না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সাবেক সহযোগীরা।

একসময় পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখিয়ে যে রাজনীতি মানুষের সমর্থন পেয়েছিল, সেই রাজনীতির বিরুদ্ধেই আজ পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক সংস্কৃতির অভিযোগ উঠছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—মানুষ কি শুধু ক্ষমতার মুখ বদলানোর জন্য আন্দোলন করেছিল, নাকি অন্যায়-দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অবসানের জন্য?

রাজনৈতিক পরিচয় যত বড়ই হোক, জনগণের অধিকারের চেয়ে বড় হতে পারে না। ক্ষমতার ছায়ায় দখল, চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতি কিংবা সরকারি সম্পদের লুটপাটের অভিযোগ উঠলে তার জবাব জনগণ চাইবেই।

কারণ পরিবর্তনের নামে যদি আবারও একই দখলদারিত্ব, একই স্বজনপ্রীতি আর একই লুটপাট ফিরে আসে—তবে মানুষ প্রশ্ন তুলবে, প্রতিবাদ করবে। ক্ষমতা কারও স্থায়ী নয়; কিন্তু অন্যায়ের হিসাব একদিন দিতেই হয়।


Comment As:

Comment (0)