“মিছিলেও প্রেম হোক, ভেঙে যাক মোহ, তুমি সাজো ব্যারিকেড, আমি বিদ্রোহ” এই পঙক্তি গুলোর আর্দ

প্রেমের ‘নতুন ঠিকানা’ আন্দোলনের মিছিল

“মিছিলেও প্রেম হোক, ভেঙে যাক মোহ, তুমি সাজো ব্যারিকেড, আমি বিদ্রোহ” এই পঙক্তি গুলোর আর্দশ উদাহরণ এখন দিল্লীর যন্তর- মন্তর। ভারতের প্রশ্নফাঁস বিতর্ককে ঘিরে হওয়া শিক্ষার্থী আন্দোলনের মধ্যেই নতুন এক প্রবণতা দেখা দিয়েছে তরুণদের মধ্যে। রাজনৈতিক দাবি আদায়ের মিছিল এখন শুধু প্রতিবাদের জায়গা নয়, অনেকের কাছে হয়ে উঠেছে নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলারও স্থান। এই নতুন প্রবণতাকে বলা হচ্ছে ‘প্রতিবাদী প্রেম’।

ভারতের শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ এবং মেডিকেল (নিট) প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিসহ বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্রবণতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক জেন-জি বা তরুণ-তরুণী একই চিন্তাধারার মানুষের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন, বন্ধুত্ব গড়ছেন, এমনকি সম্পর্কও শুরু করছেন। জেন-জি বা তরুণদের মতে, কফিশপ বা পার্কে বসে পরিচিত হওয়ার চেয়ে আন্দোলনের ময়দানে একজন মানুষের চিন্তাভাবনা, মূল্যবোধ, আবেগ ও ব্যক্তিত্ব সহজেই বোঝা যায়। তাই অনেকেই এখন নিজেদের মতো মতাদর্শের মানুষ খুঁজতে আন্দোলনের মিছিলে যোগ দিচ্ছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই মজার ছলে পোস্ট করছেন, আমার সঙ্গে প্রতিবাদী প্রেমে (প্রোটেস্ট ডেট) যেতে চান? এমন পোস্টের পর অনেক তরুণ-তরুণীর কাছে অসংখ্য বার্তা এসেছে। পরে তারা সমমনোভাবাপন্নদের সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নিয়ে নতুন সম্পর্কও গড়ে তুলেছেন।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের ভাষ্য, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে একে ওপরের দৃষ্টিভঙ্গির মিল গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যার অবস্থান মিলবে না, তার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলা কঠিন। তবে এই নতুন প্রবণতা নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এতে আন্দোলনের গুরুত্ব কমে যেতে পারে।

যদিও তরুণদের দাবি, বিষয়টি ঠিক উল্টো। তাদের মতে, এই প্রবণতার কারণে আরও বেশি তরুণ সামাজিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আগ্রহী হয়ে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন। ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে চলমান বিক্ষোভেও এই ‘প্রতিবাদী প্রেম’ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অনেকেরই মত, আন্দোলন শেষ হলেও সেখানে গড়ে ওঠা সম্পর্ক দীর্ঘদিন টিকে থাকার সম্ভাবনা আছে।

আমার বাঙলা/ হুমায়রা


Comment As:

Comment (0)