ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রে

ইরানের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান এরদোয়ানের

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় আঙ্কারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে এরদোয়ান এসব কথা বলেন। পরে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এক বিবৃতিতে ফোনালাপের বিষয়টি জানায়।

ফোনালাপে ইরান ও গাজা যুদ্ধের পাশাপাশি তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা করেন দুই নেতা। এরদোয়ান বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। শান্তি প্রতিষ্ঠার যেকোনো উদ্যোগে তুরস্ক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও ট্রাম্পকে জানান এরদোয়ান।

ফোনালাপে গাজার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার কথা থাকলেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এরদোয়ান বলেন, গাজা শান্তি প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান আরও বেড়েছে। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের পাশাপাশি গাজার পুনর্গঠনেও তুরস্কের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, গাজায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং অঞ্চলটির পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন। এর আগে রোববার (১৬ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য আরও জোরদার হচ্ছে এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতাও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে নতুন করে যখন কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, তখন এরদোয়ানের এই আহ্বানকে আঞ্চলিক শান্তি প্রচেষ্টায় তুরস্কের সক্রিয় ভূমিকার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একই সময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার বিষয়েও আঙ্কারার কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। আমার বাঙলা/ রাব্বি


Comment As:

Comment (0)