যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ট্রাম্প কানাডাকে অভিযোগ করলেন।

ট্রাম্পের অভিযোগ: কানাডা রাষ্ট্রের সুবিধা নিতে চাইছে

জুনের শেষ রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনলেন। দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য আলোচনা হঠাৎ করেই ভেস্তে যাওয়ার পর ট্রাম্প বলেছেন, কানাডা রাষ্ট্রের সুবিধা ভোগ করতে চায় অথচ তারা অঙ্গরাজ্যের মর্যাদা দাবি করে না। তাঁর এই মন্তব্য বরাবরের মতোই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক অত্যন্ত জটিল এবং প্রাচীন। উভয় দেশ অর্থনৈতিকভাবে একে অপরের উপর নির্ভরশীল। তবে গত কয়েক বছরে এ সম্পর্কের মধ্যে তীব্র টানাপোড়েন দেখা যাচ্ছে। বিশেষভাবে ট্রাম্পের আমলে বাণিজ্যিক নীতিমালায় অনেক পরিবর্তন এসেছে।

ট্রাম্পের বক্তব্যে কানাডার প্রতি যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পেয়েছে, সেটি প্রথম নয়। এর আগেও তিনি উভয় দেশের ব্যবসায়িক নীতির মধ্যে ফারাক তুলে ধরেছিলেন। বিশেষ করে তিনি প্রায় প্রায়ই কানাডার দুধ ও দুধ ভিত্তিক পণ্যের উপর বিধিনিষেধ নিয়ে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে কানাডা আমেরিকার কৃষকদের unfair দামে সমস্যায় ফেলেছে।

সাম্প্রতিকভাবে কানাডার বাণিজ্যনীতি নিয়ে ট্রাম্পের ক্ষোভ প্রকাশ করার মূল কারণ ছিল দুই দেশের মধ্যে দেশের কাস্টমস নিয়মাবলী নিয়ে আলোচনা। ট্রাম্প বলেছেন, "কানাডা যদি অঙ্গরাজ্য নয় তাহলে কেন তারা রাষ্ট্রের সুবিধা নিতে চায়? তারা নিজেরা কিছু করতে চায় না।"

এটি হল একটি বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন এবং ট্রাম্পের সহায়করা এটিকে জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকেও দেখছেন। ট্রাম্প প্রশাসন কানাডার প্রতি আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে। এই অবস্থায় দুই দেশ কি কোন সমঝোতায় আসতে পারবে তা নিয়ে এখনই কিছু বলা শক্ত।

ভবিষ্যতে যদি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা আবার শুরু হয়, তবে এটি হবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দু'দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিশ্ব বাজারের কাঠাম framework এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইতিহাস দেখিয়েছে, জাতীয় স্বার্থের জন্য বাণিজ্যিক নীতির পরিবর্তন করতে হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যন্য অঙ্গরাজ্যগুলির মতো কানাডাও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ অবস্থানে রয়েছে এবং এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী।

এই পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটি নিশ্চিত বলা সম্ভব নয়। তবে কানাডার সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের এই টানাপোড়েন বিশ্ব বাণিজ্যকে প্রভাবিত করতে পারে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিযোগের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। তারা বলছেন, "এই সমস্যাটি তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে।" তাই উত্তর আমেরিকার এই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক আলোচনা নিয়ে সকলের নজর থাকবে আগামী দিনে।


Comment As:

Comment (0)