বিশ্লেষকরা জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার না বাড়ালে ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্য অর্জন করা

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ছাড়া ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্য কঠিন: বিশ্লেষকরা

বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রগতির পাশাপাশি রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্য প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান সরকার ২০২৪ সালের মধ্যে রপ্তানির পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে, বিশেষজ্ঞরা এটিকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, যদি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে যথাযথ পরিবর্তন না আনা যায়, তবে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন একটি শক্তিশালী ও ধ্রুবক নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত, যা নিশ্চিত করবে যে, শিল্প প্রতিষ্ঠানে জ্বালানির অভাব নেই এবং কারখানাগুলো উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারে। দেশের বিদ্যুৎ খাতের ভারসাম্য সৃষ্টি এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের মধ্যে সৌর এবং বায়ু শক্তি প্রধান দুটি উৎস। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সৌর শক্তির উৎপাদনে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে কিছু অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে, এই অগ্রগতি যথেষ্ট নয়। দেশে যে পরিমাণ সূর্যসাপ্লাই রয়েছে, সে পরিমাণ আরো অনেক বেশি উন্নত প্রযুক্তির জায়গায় পৌঁছানো উচিত।

বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে আরও সমর্থন প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ, সরকারকে বিনিয়োগ, ট্যাক্স অবকাশ, এবং প্রযুক্তি প্রবাহের ক্ষেত্রে সুবিধা দিতে হবে। এই খাতে সরকারি সহায়তা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। যদি সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি না করে, তবে লক্ষ্য অর্জন করা যাবে না।

বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যাগুলি বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। অনেক দেশের অর্থনীতি যার ওপর ভিত্তি করে অগ্রসর হচ্ছে, বাংলাদেশও সেই পথে এগোতে চায়। তবে এই অগ্রগতি কেবল তখনই সম্ভব, যখন নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো হবে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিশ্বের দিকে তাকালে অনুমান করা যায় যে, এই খাতে সরকারের উদ্যোগ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যাবে। কেননা বিদ্যুৎ উৎপাদনে যুক্ত হওয়ায় নতুন শক্তির উৎস খুঁজতে হবে। আগামীতে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে যেখানে উদ্যোক্তারা ব্রতী হয়ে উঠবে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ছাড়া বাংলাদেশের ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্য অর্জন করা এক চ্যালেঞ্জ হবে। সরকারের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং এই খাতকে যুগোপযোগী করা। নবায়নযোগ্য শক্তির প্রয়োজনীয়তা শুধু একটি লক্ষ্য অর্জনের জন্যই নয়, বরং দেশের অর্থনীতির পরবর্তী ধাপেও সহায়ক।


Comment As:

Comment (0)