সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম বাড়
ভালো শেয়ারে ভর করে ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজার
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম বাড়ার থেকে দাম কমার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান থাকলেও মূল্য সূচক বেড়েছে। বেশিরভাগ ভালো কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ায় এই ঊর্ধ্বমুখীতার দেখা মিলেছে। অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম বাড়া ও কমার তালিকায় প্রায় সমান প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে ভালো ও বড় মূলধনের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ায় মূল্য সূচকের বড় উত্থান হয়েছে। এর মাধ্যমে চলতি সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসেই শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখীতার দেখা মিললো। এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মিলে। তবে লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ার দাম কমতে থাকে। বিপরীতে দাম বাড়ার প্রবণতা বাড়ে ভালো কোম্পানির শেয়ারের। যা অব্যাহত থাকে লেনদেনের শেষ পর্যন্ত। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হলেও মূল্য সূচকের মোটামুটি বড় উত্থান হয়েছে। আরও পড়ুন এক কার্যদিবস পতনের পর ফের ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজার দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৭৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৮৫টির এবং ৩৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর বাছাই করা ৩০টি কোম্পানির মধ্যে ২৬টির শেয়ার দাম বেড়েছে এবং ৪টির দাম কমেছে। এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১২২টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৬৯টির দাম কমেছে এবং ১০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২১টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫১টির এবং ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৩টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৫টির এবং ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৩০টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দুটির দাম কমেছে এবং দুটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পরও ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬৬১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৫০ পয়েন্টে উঠে এসেছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৩০ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৪৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। মূল্য সূচক বাড়লেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কিছুটা কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ১৯৭ কোটি ২১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ২১১ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১৪ কোটি ৮ লাখ টাকা। আরও পড়ুন ঈদের আগে টানা ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজার টানা ৭ কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী শেয়ারবাজার, লেনদেন ছাড়ালো হাজার কোটি এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার। কোম্পানিটির ৬০ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সামিট এলায়েন্স পোর্টের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকার। ৪৯ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্স। এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে রবি, এনসিসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ফিড মিলস, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়ামের, ব্র্যাক ব্যাংক, বিডি থাই ফুডস এবং অ্যাপেক্স স্পিনিং। অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১০৪ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৪৩ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৮টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১০৬টির এবং ২৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৮৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এমএএস/এমএমকে
https://www.jagonews24.com/economy/news/1129078





