ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী হলগুলোতে বহাল থাকা ‘সান্ধ্য আইন’ বাতিল এবং নারী শিক্ষার্থীদের অবা

ঢাবির ছাত্রী হলে ‘সান্ধ্য আইন’ বাতিলের দাবিতে ছাত্র ফ্রন্টের সংহতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী হলগুলোতে বহাল থাকা ‘সান্ধ্য আইন’ বাতিল এবং নারী শিক্ষার্থীদের অবাধ চলাচলের অধিকার নিশ্চিতসহ তিন দফা দাবিতে কর্মসূচি দিয়েছে ‘অবরোধবাসিনী’। আন্দোলনরত এ প্ল্যাটফর্মের কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক এবং সাধারণ সম্পাদক আকাশ আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব শিক্ষার্থীর জন্য সমান অধিকার, মুক্ত জ্ঞানচর্চা, নিরাপত্তা ও অবাধ চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করবে— এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ছাত্রী হলগুলোতে প্রবেশের সময়সীমা ও প্রবেশাধিকার-সংক্রান্ত বিদ্যমান নিয়ম নারী শিক্ষার্থীদের লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের মুখে ফেলছে।

অবরোধবাসিনীর উদ্যোগে বর্তমানে গ্রাফিতি অঙ্কন, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ এবং নারী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির অভিজ্ঞতা সংগ্রহের কর্মসূচি চলছে। সংগঠনটির তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— ছাত্রী হলের ‘সান্ধ্য আইন’ বাতিল করে ২৪ ঘণ্টা অবাধ যাতায়াত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বৈধ পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে আবাসিক ও অনাবাসিক সব ছাত্রীর যে কোনো ছাত্রী হলে প্রবেশাধিকার এবং অনুমতি সাপেক্ষে রাত্রিযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করা। মা-বোনসহ নারী স্বজনদের ছাত্রী হলে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। আরও পড়ুন ‘ধৈর্য হারিয়ে’ মুখোমুখি ছাত্রদল-শিবির, অস্থির শিক্ষাঙ্গন বিবৃতিতে ছাত্র ফ্রন্টের নেতারা দাবি করেন, বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫৭ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধার বাইরে রয়েছেন।

নিয়মিত ফি পরিশোধ করলেও অনাবাসিক ছাত্রীরা নিজ হলেও প্রবেশ করতে পারেন না। নিরাপত্তার অজুহাতে রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত হলের গেট বন্ধ রাখার কারণে শিক্ষার্থীদের হয়রানি, অপমানজনক জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রশাসনিক হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। নেতারা আরও বলেন, দূরপাল্লার ভ্রমণ শেষে গভীর রাতে ক্যাম্পাসে ফেরা, জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন, একাডেমিক বা সাংগঠনিক কাজে অংশগ্রহণ কিংবা টিউশন শেষে দেরিতে ফেরার মতো বাস্তব পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করে কেবল নারী শিক্ষার্থীদের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। তাদের মতে, ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।

সেই দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের চলাচল সীমিত করা কোনো কার্যকর সমাধান নয়। আরও পড়ুন শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস বরদাশত করা হবে না: জাগো নিউজকে শিক্ষামন্ত্রী তারা আরও অভিযোগ করেন, অনাবাসিক ছাত্রীদের অনেক ক্ষেত্রে নিজ হলের ক্যান্টিনেও প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। ফলে অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে বাইরে অস্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিহীন খাবারের ওপর নির্ভর করছেন, যা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি করছে। বিবৃতিতে নেতারা উল্লেখ করেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা নার্সিং কলেজ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের বিধিনিষেধ নেই।

তাই শুধুমাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের ওপর এ ধরনের নিয়ম বহাল রাখা বৈষম্যমূলক বলে তারা মন্তব্য করেন। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের নেতারা বলেন, এটি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নয়; বরং নারীর স্বাধীন চলাচল সীমিত করার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যকে টিকিয়ে রাখার একটি উপায়। তারা অবিলম্বে ‘সান্ধ্য আইন’ বাতিলের দাবি জানিয়ে আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সচেতন শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

কেএসআর/


Comment As:

Comment (0)