বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস

বাংলাদেশে মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বড় অর্জন

বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পেরেছে। এই সাফল্য মূলত বিভিন্ন স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে, যেখানে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে।

বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারী পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের শ্রম বাজারে বিশাল পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে তরুণ জনগণের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ঢাকা শহর থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সেমিনার, কর্মশালা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে যুবক-যুবতীরা দক্ষতা অর্জন করে বিভিন্ন খাতে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক সংগঠন আইএলও (International Labour Organization) সম্প্রতি বাংলাদেশে মানবসম্পদ উন্নয়ন নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের যুবসমাজের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য একাধিক কার্যকরী পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে। এর মধ্যে গত দুই বছরে কাজের স্থানীয় বাজারের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালানো হয়েছে।

স্থানীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের মতে, এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সাড়া জাগানো সাফল্য দিয়েছে। দেশের ৩২টি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নতুন ও দক্ষ শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শুরু হয়েছে। এতে এক লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হচ্ছে এবং তারা বিনা খরচে বিভিন্ন কারিগরি দক্ষতা শিখতে পারছেন। তা ছাড়া, মহিলা কর্মসূচির আওতায় তরুণী ও মহিলাদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কর্মসংস্থান খাতে অন্যতম সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে ৯০ শতাংশেরও বেশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আটজনের বেতন বৃদ্ধি। এর মাধ্যমে অস্থায়ী শ্রম থেকে স্থায়ী কাজে স্থানান্তরিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তারা। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও বাংলাদেশের এই সাফল্যকে প্রশংসা করছে। বিশেষ করে, যুবসমাজের জন্য এধরনের উদ্যোগগুলো দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার প্রযুক্তি খাত, কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে কর্ম সৃষ্টি এবং দক্ষতা উন্নয়নের ওপর অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি, শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ করে যাচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ পায় এবং গ্লোবাল মার্কেটের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী তারা প্রস্তুত থাকে।

এছাড়া, বেসরকারি খাতের উন্নয়নেও সরকারের নীতি ও প্রণোদনা অব্যাহত রয়েছে। স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তাদের সহায়তার লক্ষ্যে বিভিন্ন তহবিল গঠিত হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের অর্থনীতি তথা মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এর হাত ধরে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে তার দক্ষ জনগণ গঠনে সক্ষম হবে।

পরিশেষে, বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে এই এগিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। সরকারের সঠিক নীতিনির্ধারণ ও জনসম্পদ উন্নয়নে পরিকল্পিত উদ্যোগের ফলে আগামী দিনে বাংলাদেশের যুবসমাজ বিশ্বের কারিগরি ও দক্ষ কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে, যা দেশের জন্য বড় ধরনের সাফল্য বয়ে আনবে।

http://www.amarbanglabd.com/news/article/sports/16676

Comment As:

Comment (0)