এক চিকিৎসকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে বিশাল অর্থ আত্মসাত করেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। সিআইডি এই ঘটনায় দ

চিকিৎসকের ক্রেডিট কার্ডের তথ্য হাতিয়ে ৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছে সংঘবদ্ধ চক্র

এক চিকিৎসকের ক্রেডিট কার্ডের তথ্য ব্যবহার করে ৩ লাখ ৪১ হাজার টাকার প্রতারণা করেছে এক সংঘবদ্ধ দুর্নীতির চক্র। এই ঘটনায় সিআইডি (পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ) ঢাকা থেকে শাহীনুর রহমান শাহিন (৫০) ও সঞ্জয় গুপ্তা (৩১) নামের দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। শাহীনুর রহমান একটি মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার এবং সঞ্জয় গুপ্তা একই প্রতিষ্ঠানে ব্র্যান্ড প্রমোটার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একদিকে যেখানে ব্যাংকিং ব্যবস্থার নিরাপত্তা বেড়েছে, সেখানে এই ধরনের প্রতারণার ঘটনা আমাদের জন্য একটি বড় সংকেত।

২০২২ সালের ২১ ডিসেম্বর যশোর শহরের মুজিব সড়কের একটি শোরুমে ভুক্তভোগী চিকিৎসক একটি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে পোশাক কেনার সময় সমস্যায় পড়েন। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সময় জটিলতার কারণে লেনদেন সম্পন্ন হতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে। এর পরের ঘটনা ঘটে ৩১ ডিসেম্বর রাতের দিকে, যখন অপরিচিত এক মোবাইল নম্বর থেকে চিকিৎসকের কাছে ফোন আসে। ফোনকারী নিজেকে ইস্টার্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বলেন, তার ক্রেডিট কার্ড সাময়িকভাবে স্থগিত হয়ে গেছে।

ফোন-call এর মাধ্যমে কথোপকথন চলাকালে, প্রতারক বিভিন্ন ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নেয় এবং এরপর চিকিৎসকের অ্যাকাউন্ট থেকে সাতটি পৃথক লেনদেনের মাধ্যমে মোট ৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা ছয়টি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নম্বরে স্থানান্তর করে। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে চিকিৎসক ২০২৩ সালের ২১ মার্চ যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন।

সিআইডির এক কর্মকর্তার মতে, তদন্তে তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধানের মাধ্যমে এবং পূর্বে গ্রেফতার হওয়া আসামিদের জবানবন্দিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের ফলে শাহীনুর রহমান এবং সঞ্জয় গুপ্তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছে।

শাহীনুর রহমান তার অধীন ব্র্যান্ড প্রমোটারদের মাধ্যমে একাধিক গ্রাহকের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে বিভিন্ন সিম নিবন্ধন করাতেন। প্রকৃত গ্রাহকের কাছে একটি সিম দেয়ার পর অতিরিক্ত ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে নিবন্ধিত অন্য সিমগুলো শাহীনুরের কাছে হস্তান্তর করা হয়ে থাকে। পরে এসব সিম ব্যবহার করে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা হত এবং কুরিয়ারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে প্রতারণার কাজে লাগানো হত।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার শাহীনুর রহমান ও সঞ্জয় গুপ্তা নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো মেনে নিয়েছেন। সিআইডি সম্পর্কিত চক্রে আরও কেউ হামলাকারী রয়েছে কিনা এবং একই কৌশলে আর কেউ প্রতারণার শিকার হয়েছে কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রচেষ্টা চলছে।

প্রতারণার এই ঘটনা ক্রেডিট কার্ড সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। ব্যাংক এবং মোবাইল অপারেটরদের উচিত নিরাপত্তার ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করা। পাশাপাশি গ্রাহকদেরও সচেতন হতে হবে যাতে এ ধরনের প্রতারণার শিকার হতে না হয়। সরকারের এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে এ ধরনের অপরাধের মাত্রা অনেক কমে যাবে।


Comment As:

Comment (0)