প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬। রাজধানীর নভোথিয়েটারে চলেছে প্রস্তু

বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬: প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের নতুন দিগন্ত

নতুন ধারণা থেকে উদ্ভাবনী প্রযুক্তির জন্ম যাতে হয়, সেই লক্ষ্য সামনে রেখে প্রথমবারের মতো রাজধানীর নভোথিয়েটারে আয়োজিত হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’। আগামী ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর, তিন দিনব্যাপী এই মেলায় দেশের তরুণ গবেষক, উদ্ভাবক, বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা এবং প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কাজ ও উদ্ভাবন নিয়মিতভাবে তুলে ধরবেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের ব্যবস্থাপনায় এই মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। এবারের মেলার মূল প্রতিপাদ্য ‘ইনোভেট টু মার্কেট’ বা উদ্ভাবনের বাজারে স্থান পাওয়া। মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যিনি নতুন উদ্ভাবন ও গবেষণায় সরকারের সমর্থনের প্রতীক।

এই মেলা শুধুমাত্র উদ্ভাবন প্রদর্শনের স্থান নয়, বরং গবেষণা ও ধারণাকে বাস্তব পণ্য এবং সেবায় রূপ দিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, মেলায় ১৪টিরও বেশি উদ্ভাবন খাতের শতাধিক উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হবে। এর পাশাপাশি ৫০টির বেশি উদ্ভাবনী প্রকল্পের উপস্থাপনা, ১০টিরও অধিক সেশন ও সংলাপ এবং উদ্ভাবনের উপর নানা বিশেষ আয়োজন থাকবে।

মেলায় অংশগ্রহণের জন্য ৫০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৫০টিরও বেশি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের দল অংশ নেবে। বৈশ্বিক ও প্রবাসী বাংলাদেশি মিলিয়ে ১০টিরও বেশি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত থাকবেন। মেলায় একটি বিশেষ ইনোভেশন হাব থাকছে, যেখানে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

জানা গেছে, সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, গবেষক, উদ্যোক্তা ছাড়াও স্টার্টআপ, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোও উদ্ভাবন তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। সবার জন্য উন্মুক্ত এই মেলায় নতুন নতুন উদ্ভাবন উপস্থাপন করতে ইচ্ছুকরা অনলাইনে নিবন্ধন করতে পারবেন। নিবন্ধনের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ আগস্ট। নিবন্ধনের জন্য বিশেষ লিংক দেওয়া হয়েছে, যা হলো innovationfairbd.org।

বাংলাদেশের উদ্ভাবনশীল সমাজ এবং প্রযুক্তির অগ্রগতিতে এই মেলা একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই আশা করছেন উদ্যোক্তারা। দেশের তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী চিন্তা এবং প্রযুক্তিগত সামর্থ্যকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা নিজের কাজ এবং ধারণাগুলোকে বৃহত্তর জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে পারবেন, যা তাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে সাহায্য করবে।

বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬ এই সময়ে উদ্ভাবনের চরিত্র পরিবর্তনের অন্যতম প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে, যেখানে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারী তাদের সৃজনশীলতাকে প্রকাশ করতে পারবেন। ফলে দেশের প্রযুক্তি খাতে নতুন দিগন্তের উন্মোচন এবং উদ্ভাবনের এক যুগান্তকারী অধ্যায় শুরু হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হচ্ছে।


Comment As:

Comment (0)