আদালত কর্তৃক জাল নোট রাখার সন্দেহে দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ার ঘটনা চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী
চট্টগ্রামে জাল নোটের মামলা: দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
চট্টগ্রাম মহানগরে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় জাল নোট রাখার মামলায় আদালত কর্তৃক দুই ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে, প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে, যা অনাদায়ে অতিরিক্ত তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আদালতের এই রায় গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) চট্টগ্রাম মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৮ এর বিচারক আফরোজা জেসমিন কলি তুলে ধরেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার দিগরপালখালী এলাকার মনোরঞ্জন ধরের ছেলে রাজীব ধর (৪৮) এবং চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার দক্ষিণ খোলাইন আমন্দর মাস্টারের বাড়ির মৃত আহম্মদ নবীর ছেলে মো. জসিম (৩৬)। আদালতের বেঞ্চ সহকারী নাঈম হোসেন জানান, মামলায় মোট নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। উক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং এ কারণে আদালত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে দুজনেই অনুপস্থিত ছিলেন, যার ফলে তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানামূলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলাটির সূত্রপাত ঘটে ২০১৬ সালের ২৮ মে, যখন পুলিশ বায়েজিদ বোস্তামী থানার আমিন জুট মিলের সামনে অবস্থিত আজমীর হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে একটি অভিযান চালায়। ওই সময় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন রাজীব ধর। তার সঙ্গে একটি শপিং ব্যাগ ছিল, যা তল্লাশি করে ১ হাজার ও ৫০০ টাকার মোট ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়। সেই অভিযানের সময়, রাজীবের সহযোগী হিসেবে জসিম উদ্দিনকেও গ্রেফতার করা হয়।
বাদী পক্ষের আইনজীবী জানান, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে জাল টাকার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তারা জাল নোট জানাতেই আসল টাকা হিসেবে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ১ মার্চ অভিযোগ গঠন করা হয়, যা আদালতে মামলাটির বিচার শুরু করতে সহায়তা করে। আদালত কর্তৃক এই রায়ের ফলে সমাজে জাল টাকার ব্যবহার এবং অপরাধ নির্মূলে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হলো।
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সমাজে অর্থনৈতিক সুষ্ঠু পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় একটি সঠিক পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। বিচার বিভাগের এমন কার্যক্রম জনসাধারণের মধ্যে আস্থা জাগিয়ে তুলবে এবং অপরাধীদের প্রতি একটি কঠোর বার্তা পাঠাবে।





