বাঁশখালী উপজেলায় ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেছে সালাম-আদিল ফা
বাঁশখালীর বন্যাদুর্গত শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা-উপকরণ বিতরণ করলো সালাম-আদিল ফাউন্ডেশন
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় সম্প্রতি ইউনেস্কোর রেকর্ড অনুযায়ী স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল (২২ আগস্ট) শনিবার বিকেল ৪টায় সালাম-আদিল ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উপজেলার দুটি সরকারি প্রাথমিক স্কুলে নতুন স্কুলব্যাগ এবং বই বিতরণ করা হয়। ২৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার পশ্চিম চেচুরিয়া ঘোনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে এসব শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাঁশখালী টাইমসের সম্পাদক আবু ওবাইদা আরাফাত, কবি আরকানুল ইসলাম, এবং সালাম-আদিল ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি ইমতিয়াজ উদ্দিন ও আকিবুল হক। তাদের উপস্থিতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চলমান শিক্ষা কার্যক্রমে সহায়তা হিসেবে এই উদ্যোগের উচ্চ মূল্যায়ন করা হয়।
বন্যায় অনেক শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষা উপকরণ হারিয়ে ফেলেছিল, এদিকে নতুন স্কুলব্যাগ এবং গাইড বই পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি উল্লাসের অবস্থা সৃষ্টি হয়। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাঁশখালী প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব মিজান বিন তাহের, পশ্চিম চেচুরিয়া ঘোনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার দে এবং বরইতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মু. আশেকুর রহমান চৌধুরী।
সালাম-আদিল ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে দুস্থ ও অসহায় মানুষদের প্রতি মানবিক সাহায্য প্রদান করে আসছে। তাদের এই উদ্যোগটি শুধু শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে নয়, বরং স্থানীয় জনগণের মধ্যে একটি উৎসাহের সঞ্চার করেছে। এই সংকটময় মুহূর্তে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ না রেখে এগিয়ে আসার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয় ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা লায়ন সালমা আদিলকে।
এসময় বক্তারা বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীদের উন্নতির দিকে ধাবিত করবে। বন্যার প্রভাবে শিক্ষার্থীদের মাঝে যে হতাশা কাজ করছিল, সেখান থেকে তাদেরকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করবে। সহায়তা গ্রহণের পর শিক্ষার্থীদের মুখে খুশির ছোঁয়া স্পষ্ট ছিল এবং তাদের নতুন পাঠ্যবই হাতে তুলে দিয়ে নতুন করে লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ফাউন্ডেশনের তৎপরতার বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়। তাদের বক্তব্য ছিল, এমন পদক্ষেপগুলো সমাজে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন তৈরি করবে এবং সকলের সহযোগিতায় শিক্ষা কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।
শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা উপকরণের মধ্যে শিক্ষামূলক বই এবং নতুন স্কুলব্যাগ অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা যখন বিদ্যালয়ে যাবে, তখন নতুন বই এবং ব্যাগ তাদের যে আনন্দ দেবে, তা নিঃসন্দেহে শিক্ষা অর্জনের পথে তাদেরকে আরও উৎসাহী করবে।
এভাবে স্থানীয় সমাজে শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়ন বাধাহীনভাবে পরিচালিত হলে, ভবিষ্যতের যুব সমাজ আরো দক্ষ হয়ে ওঠার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি, কোমলমতি শিশুদের অগ্রগতিতে সহযোগিতা করার ব্যাপারটি খুবই প্রয়োজনীয়।





